প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের আমলনামা ও সম্পদ বিবরণী এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিলকৃত হলফনামা বিশ্লেষণ করে এক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, ৭৪ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের চেয়ে তার স্ত্রী মেহের নিগারের আয় ও সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্নার বাৎসরিক আয় ৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হলেও তার স্ত্রী মেহের নিগারের বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৭০৭ টাকা। মান্নার নিজের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪২ টাকা হলেও তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকা।
হলফনামায় আরও দেখা যায়, মান্নার নিজ নামে নগদ অর্থ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ১৫৯ টাকা থাকলেও তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৩৯৭ টাকা। এমনকি স্ত্রীর নামে ৩৮ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত থাকলেও মান্নার নামে তা নেই। মান্নার একটি বাড়ির মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান হলফনামায় অসংগতি ও ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তবে গত ১১ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে মান্নার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। মান্নার আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর চূড়ান্ত রিপোর্ট হয়ে গেছে, তাই তিনি আইনত নির্দোষ।
মান্নার হলফনামায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে ২২ কোটি টাকার ঋণের তথ্য দেওয়া হয়েছে, যা গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পুনঃতফসিলীকরণ করা হয়। এই ঋণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে মান্নার সাথে এমডি হিসেবে ছিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নাজমুল কাদির সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেলেও তাদের অনুপস্থিতিতেই ‘ভুয়া স্বাক্ষরে’ ঋণ পুনঃতফসিল করার অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে দুদকের তদন্তাধীন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত সম্পদ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সব সময়ই ছিল।
১৯০৬ - ১৯৭১: মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল পর্যন্ত নেতারা ত্যাগের রাজনীতি করতেন। তখন সম্পদ নয়, আদর্শই ছিল মূল মানদণ্ড।
১৯৯০ - ২০২৪: স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে হলফনামায় সম্পদের তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি শুরু হলেও অনেক ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে বারবার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর মানুষ এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চায়।
২০২৫ - ২০২৬: ২০২৫ সালের সংস্কার পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো হাই-প্রোফাইল প্রার্থীর সম্পদ ও ঋণের তথ্য জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম ও জামায়াতের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের সাথে তার ত্রিমুখী লড়াই এখন সময়ের অপেক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে হলফনামার তথ্যের স্বচ্ছতাই হবে প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মান্নার মতো পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ যখন আওয়ামী লীগের পলাতক নেতার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের দায়ে অভিযুক্ত হন, তখন তা নৈতিকতার প্রশ্নে জনমনে সংশয় তৈরি করে।
সূত্র: ১. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাহমুদুর রহমান মান্নার দাখিলকৃত হলফনামা (জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির প্রতিবেদন। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও প্রথম আলো নিউজ আর্কাইভ (ডিসেম্বর ২০২৫ - জানুয়ারি ২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |